মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৪ পূর্বাহ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট ॥ বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। একদিকে দলীয় চেয়ারপারসন পদ শূন্য, অন্যদিকে সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই দুই বাস্তবতার সমন্বয় ঘটাতে গিয়ে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে কঠিন সময় পার করছে বিএনপি।
দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, চেয়ারপারসনের পদ শূন্য হলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান স্বয়ংক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেন। সে হিসেবে তারেক রহমান বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকলেও এখনো তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়নি। বাস্তবে এই পদবি ব্যবহারও এড়িয়ে চলছে দল। তবে দলীয় সূত্রগুলো জানায়, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সব সিদ্ধান্ত, নির্বাচনী কৌশল ও দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হচ্ছে তারেক রহমানকে কেন্দ্র করেই।
এই অনানুষ্ঠানিক অবস্থানই তৈরি করেছে নির্বাচনী প্রচারে ছবি ব্যবহারের জটিলতা। নির্বাচন কমিশনের আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, শুধু বর্তমান দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও বিএনপি এখনো স্পষ্ট করে বলতে পারছে না—কার ছবি ব্যবহার করা হবে। ফলে মাঠপর্যায়ে প্রার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা ও কৌশলগত কারণে আপাতত এ বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না। শোক কর্মসূচি শেষ হলে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হতে পারে। শোক কর্মসূচি শেষ হচ্ছে ৫ জানুয়ারি। এরপরই বিএনপি পূর্ণমাত্রায় নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
বিএনপির নেতাদের মতে, শারীরিকভাবে অনুপস্থিত থাকলেও খালেদা জিয়াই এবারের নির্বাচনী প্রচারের আবেগী কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবেন। তার জানাজা ও অন্তিম বিদায়ে মানুষের বিপুল উপস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক মহলের শ্রদ্ধাকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দেওয়ার কৌশলেই এগোতে চায় দল। ভোটারদের কাছে বার্তা দেওয়া হবে—খালেদা জিয়া নেই, কিন্তু তার আদর্শ ও নেতৃত্ব বিএনপির রাজনীতিতে জীবিত।
ইতোমধ্যে নির্বাচন পরিচালনার জন্য ৪১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাচন স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি প্রার্থী ব্যবস্থাপনা, বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ন্ত্রণ এবং প্রচার কৌশল বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে। বিদ্রোহী প্রার্থীই এখন বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শতাধিক আসনে একাধিক নেতা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরই মধ্যে নয়জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং আরও অনেককে মনোনয়ন প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দলীয় নেতৃত্বের মতে, শৃঙ্খলা বজায় না রাখতে পারলে সহানুভূতির রাজনীতি টেকসই হবে না। তাই সামনে মনোনয়ন আপিল, প্রত্যাহার, প্রতীক বরাদ্দ ও ইশতেহার চূড়ান্ত করার প্রতিটি ধাপে সতর্কভাবে এগোতে চায় বিএনপি।
Leave a Reply